প্রিন্ট এর তারিখঃ May 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 30, 2026 ইং
টিকার তীব্র সংকট ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে উদ্বেগ, ইউনিসেফ প্রতিনিধির মন্তব্যে নতুন আলোচনা

দেশে শিশুদের জীবনরক্ষাকারী টিকার সংকট এবং টিকাদান কর্মসূচির ব্যাহত হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের বিদায়ী প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স সম্প্রতি এ বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যে পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন, যা জনমনে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
রানা ফ্লাওয়ার্সের বক্তব্য অনুযায়ী, টিকার ঘাটতি ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে প্রশাসনকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ❝কোনো মহামারি রাতারাতি তৈরি হয় না। বিশেষ করে টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ঘাটতি ও বিলম্বই বড় সংকট তৈরি করে।❞
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সতর্কবার্তার পরও টিকা সরবরাহ ও কর্মসূচি ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান ছিল না। এর ফলে দেশের শিশুদের মধ্যে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হলে হাম, ডিপথেরিয়া, পোলিওসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তারা বলছেন, শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকার বিকল্প নেই এবং এ বিষয়ে প্রশাসনিক সমন্বয়, দ্রুত সরবরাহ ও জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে সামাজিক ও নাগরিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে দীর্ঘসূত্রতা ও সমন্বয়হীনতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও টিকাদান কর্মসূচির ওপর মানুষের আস্থা ধরে রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে সংকটের কারণ ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবিও উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
তবে এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ BangladeshInsights.com